আত্ম-ছায়াময়

মনে পড়ে যায় সেই পাখিটার গান 

যেই পাখি আজো খাঁচা বয়ে চলে, 

পায়নি পরিত্রাণ। 

একমুহূর্তে যে বা যারা তার ঘর,

আঘাতটা পেলে ভুলে বসে পাখি, 

কে আপন কে বা পর।

শুনেছি তোমার আহত আমিটা 

অতীতেই করে বাস, 

স্মৃতিগুলো সেজে অমোঘ নিয়তি 

চেপে ধরে নিঃশ্বাস। 

কত কিছু হতে পারতো হয়নি, 

কত কিছু ক্ষয়ে নাশ,

সে হিসেব নিয়ে কাটাকুটি খেলে 

করে বেদনার চাষ।

জমে থাকা ক্ষত, এখনো জীবিত 

পেলে পুষে রেখে তাকে, 

যতোই গিয়েছো সামনে এগিয়ে 

ততোই পেছনে ডাকে।

দূরত্ব দেখো, শূন্যতা দেখো, 

তুমি, আমি, আমরা মুখোমুখি দাড়ালে 

সবকিছু আছে, সবকিছু আছে 

তারপরও নেই, হারালে? 

স্মৃতিগুলো চলো মেলে দেই রোদে, 

যেভাবে শুকোই পুরনো প্রিয় কোন বই,

যত যত ক্ষত, ভয়, ক্রোধ 

কি আছে তার আড়ালে?

পাশে বসে থাকা মানুষের বুকে নীল 

যে সুর বেজেছে ঘাতে প্রতিঘাতে,

গহীনে অন্তঃহীন।

হেরে যাওয়া নয় হারিয়ে ফেলার ভয়,

দেয়ালের পরে দেয়াল ভাঙতে

কেটেছে রাত্রিদিন।

অস্বীকৃতিতে চুপি চুপি যারা

ছায়াময় হয়ে বাঁচে, 

চাইলেই ভালবাসা নিয়ে পাখি

টেনে নিতে পারো কাছে।

(নারিন্দা, ২০২১)

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *