জুলাই -পদ -পদবী

আমাদের দেশে পদ-পদবী পাওয়াটা দায়িত্ব প্রাপ্তি হিসেবে দেখা হয় না, দেখা হয় ফায়দা বা পুরষ্কার প্রাপ্তি হিসেবে। ফলে গণ-আন্দোলনের মাঝে দিয়ে উঠে আসা গুটিকয়েক তরুণ ছাত্র-নেতারা যে পদ-পদবী পাচ্ছে সেটাকেও সেভাবে দেখা হবে। এভাবে দেখলে বিপদটা হলো আন্দোলন তো তারা একা করেনি, জীবন-যৌবন বাজি রেখেছে অসংখ্য তরুণ। তাই যুদ্ধের শেষে ‘লুটের মাল ভাগাভাগি হচ্ছে’ এমন চিত্র যদি প্রতীয়মান হয়, তবে লুটের মালে ভাগ তো ছোট-বড় সব ‘সমন্বয়ক’-ই চাইবে।

কিন্তু এরূপ সরকারি পদ-পদবী সীমিত। ফলে বাকিদের খুশি করতে নতুন কাঠামো লাগবে, যেখানে পদ-পদবী দিয়ে বাকিদের শান্ত করার চেষ্টা করা যাবে। তাতেও অনেককে সন্তুষ্ট করা সম্ভব হবে না। আবার এসব আপাত অগুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবী প্রাপ্তদের সামনে তুলনা হিসেবে সরকারের চূড়ায় বসে থাকা সমবয়সী সহযোদ্ধারা থাকবে, ফলে আত্মতৃপ্তি পাওয়া কঠিন। এই অতৃপ্তি মেটাতে অনেকেই নিজেদের পদ-পদবীর যথেচ্ছ ব্যবহার নিশ্চয় করবে, সেসবে বাঁধা কি সরকারের অংশ হওয়া নেতারা দিতে পারবে? সরকারের অংশ না হলে যেভাবে পারতো সেভাবে ধারণা করি পারবে না।

নিশ্চয় এখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নিঃস্বার্থ নেতা-কর্মী আছে, কিন্তু এরকম পরিস্থিতিতে তারা টিকতে পারার কথা না। জনগণও এসব ভাগ বাটোয়ারা প্রসূত কোন্দল হলে তা দেখবে, আস্থা হারাবে।

পদ-পদবী প্রাপ্ত সমন্বয়করা যদি বাকিদেরকে কনভিন্স না করতে পারে যে কেন এসব পদ-পদবী ব্যক্তিস্বার্থে ‘লুটের মাল ভাগাভাগি না’, বরঞ্চ বৃহত্তর স্বার্থে দায়িত্ব গ্রহণ, তাহলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে উঠা রাজনৈতিক শক্তির পোটেনশিয়াল অনেকখানি নষ্ট হবে।

দেশে মন্ত্রি-সচিব ইত্যাদি অনেক ছিল, অনেক আছে। আশা করতেছিলাম এই আন্দোলন থেকে দীর্ঘ কর্মসূচির মাঝে দিয়ে রাজনৈতিক জননেতৃত্ব রাজনৈতিক পার্টি সহ বের হয়ে আসবে।

(২৯ আগস্ট, ২০২৪)

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *