১)
গড়পড়তা আর্টিস্ট সমাজের একটা নাকি কান্না আছে, খুবই বিরক্তিকর। সে যেন এক এনডেঞ্জার্ড স্পিসিস, যারে অভয়ারণ্যে রেখে বাঁচায়া রাখতে হবে। কান্নাটা বেশি বিরক্তিকর কারণ আর্টিস্ট হিসেবে যেই স্পেশাল ট্রিটমেন্ট সে চায় তা সে একটা সাধারণ মানুষ হিসেবেই পাওয়ার শতভাগ অধিকার রাখে। কিন্তু সে সাধারণ মানুষের কাতারে আসবে কেন? সে তো স্পেশাল। নো ব্রো, তুমি স্পেশাল কেউ না। তুমি এই সিস্টেমে জাস্ট আরেকটা দিনমজুর। তোমারে দিয়ে প্রোফিট করা গেলে তুমি কিছুমাত্র মজুরি পাইবা, এইটুকুই তোমার দাম। বাকি সবাই অধিকার না পাইলেও, শুধু আর্টিস্ট হিসেবে তোমাকে অধিকার দেয়া হবে, এমন হবে না। হবে, যদি অন্যদের চেয়ে বেটার গোলামি করতে পারো, পুরষ্কার হিসেবে, অধিকার হিসেবে না। আর যদি অধিকার হিসেবেই অধিকার পাইতে চাও, সেই লড়াই শুধু আর্টিস্ট হিসেবে দিয়া তুমি পারবা না এইক্ষেত্রে।
২)
এইসকল দিনমজুরির বাইরে যদ্দুর মুগ্ধতা তুমি মানুষের কাছ থিকা পাও সেইটা যদ্দুর তোমার অ্যাচিভমেন্ট, একই পরিমাণে যে মুগ্ধ হচ্ছে তারও এচিভমেন্ট। তোমার আর্টিস্ট সত্ত্বায় ইনহেরেন্ট নার্সিসিজম কম থাকলে তুমি তা দেখতে পাবা। মোহগ্রস্ত বাপ-মায়ের কারণে যেমন নার্সিসিস্টিক সন্তান পয়দা হয়, তেমনি উদ্ধৃত সম্পদের চর্বিযুক্ত ক্ষমতাকাঠামোর ভেতর দিয়া আমরা যেই আর্টিস্ট সত্ত্বা পাইছি তার বাইড়া উঠা, যা কিনা মজ্জাগত ভাবে নার্সিসিস্টিক।
৩)
আমাদের (বা আমাদের উপর চাপানো) সভ্যতা দাতা আর গ্রহীতার মাঝে অন্যায় পার্থক্য তৈরি করছে। তাই শিল্পী/কবি/সাহিত্যিক হিসেবে তোমার নিজেকে একক ও অবধারিতভাবে দর্শক/শ্রোতা/পাঠকের চেয়ে গ্রেটার কিছু মনে হয়। এই গ্রেটনেসের বাইরেও একটা জায়গা আছে, সেইখানে গেলে তুমি বুঝতে পারবা- এমন কখনো হয় নাই যে তুমি কাউকে কিছু দিছো এবং অপর কেউ তা গ্রহণ করার মাধ্যমে তোমার নিজের প্রাপ্তি ঘটে নাই। তাই, সম্পর্কটা দাতা ও গ্রহীতার না, বরঞ্চ দাতা এবং দাতার। দেখতে পারবা যে সম্পর্কটা সৃষ্টিশীল মানুষের সাথে অসৃষ্টিশীল মানুষের না। বরঞ্চ, এক সৃষ্টিশীলের সাথে আরেক সৃষ্টিশীলের। বুঝতে পারবা যে, আমাদের সকল দানই মূলত প্রতিদান। এই অভিজ্ঞতা স্পেশাল, কিন্তু আলাদাভাবে আমরা কেউ তেমন স্পেশাল কেউ না।

Leave a Reply