বেশ কয়েক মাস আগে খেয়াল করলাম আমার টুয়েন্টিজ শেষের পথে। কয়েকমাস ভাবলামও এটা নিয়ে, যে কেন এই ‘টুয়েন্টিজ’ শেষ হয়ে আসাটা আমার জন্য একটা ঘটনা। এইরকম অ্যাবস্ট্রাক্ট বিষয়াদি তো ঘটনা হয় তখন, যখন কোনো অপূর্ণতা থাকে। আমার তো তেমন অভিযোগ করার মতো কিছু নাই। এই সময়ের মাঝে আমার কি এমন কোনো কিছু হওয়ার বা অর্জন করার বাসনা ছিল, যা হয় নাই দেখে এমন অনুভূতি?
অনেক ভেবে একসময়ে খেয়াল করলাম, সারাজীবন আমার মাথায় একটা ন্যারেটিভ ছিল, ত্রিশের কাছাকাছি যখন আমি আসবো, তখন আমি কেমন আমি হবো, তা নিয়া। আমার মাথায় একটা ইমাজিনেশন ছিল যে, এই বয়সে এসে অন্তত কিছু একটা বিষয়ে আমার মাস্টারি থাকবে। কোনো একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত হয়ে কিছু বলার মতো পাণ্ডিত্য অর্জন করবো। সেটা হয় নাই দেখে, সাবকনশাস একটা আক্ষেপ আমার মাঝে কাজ করে। যা কিনা বয়স নিয়া ভাবার আগে আমি সচেতনতভাবে খেয়াল করি নাই।
যেকোনো কিছু শেখার ব্যাপারে আমার একটা অবসেশন শৈশব থেকেই আছে। আবার একই সাথে, আমার একটা অনন্ত ছাত্রত্বের জটিলতাও আছে। মানে, আমি এত গান করলাম, কখনো রেকর্ড করা হইলো না। কত লিখলাম, কখনো ছাপানো হইলো না। কত আঁকলাম, কিন্তু সবই স্কেচ, কোনো কমপ্লিট আর্টওয়ার্ক নাই। কত গল্প ভাবলাম, কোনোটাই লিখে শেষ করা হইলো না। কত কত পড়লাম-জানলাম-ভাবলাম, তা কোথাও প্রয়োগ করা হইলো না। বিষয়টা যে মূলত সময়-সুযোগের অভাবে, এমনও না। আমি আসলে শেখাটাই সবসময় এত উপভোগ করছি যে আউটপুট খুব একটা ম্যাটার করে নাই। আবার, কোনো কিছু কমপ্লিট করার মাঝে তো একটা চূড়ান্ত ব্যাপারও থাকে। কখনো মনেই হয় নাই ততোটা আমি শিখতে পারছি যতটুকু শিখলে পরে চূড়ান্তভাবে তা প্রকাশ করা যায়। মনে হইছে, ন্যুনতম কোনো একটা স্তর না অতিক্রম করে নিজেরে প্রকাশ করা মানে একরকমের প্রতারণা। এছাড়াও, বিষয়টা হয়তো এমনও যে, আপনি যখন একটা ক্রিয়েশন করতেছেন, তা তো আপনার মাঝেই আছে। সেটা সম্পন্ন করে প্রকাশ করা মানে তা অপরের সামনেও উন্মুক্ত করা। সেই উন্মোচন যেমন নিজেকে উন্মোচন করা, একইভাবে নিজের ভালনারেবিলিটিকেও উন্মোচন করা। সেটাও তো কম ভয়ংকর না। নিরন্তর ছাত্রত্বের একটা আরাম এইটা যে এতে একটা কমফোর্টেবল জোনে থাকা যায়। সেই আরামও হয়তো ছাড়তে ইচ্ছা করে নাই। শেইমেরও একটা জায়গা হয়তো আছে। নিজের ক্রিয়েশনের অস্তিত্ব প্রকাশ করা মানে তো, নিজের অস্তিত্বরেও প্রকাশ করা। তা নিয়ে জড়তাও হয়তো গোপনে কাজ করে।
যাইহোক, জন্মদিন উপলক্ষে বিষয়গুলা নিয়ে রিসেন্টলি আবারো ভাবা হইলো। ভাবলাম, একটা নোট থাকুক প্রকাশ্যে। বলা যায়, কমফোর্ট জোন কিছুটা ভাঙার চেষ্টা। কোনো সার্কাজম বা ক্রিয়েটিভ কাজের আড়াল ছাড়া, নিজেরে নিয়ে এতোটা লিখলাম, এইটাও কঠিন লাগলো।
(১৫ মার্চ, ২০২৬)

Leave a Reply