বাংলাদেশের শিল্পসাহিত্য-সিনের একটু মেটা-ক্রিটিসিজম

১)

বাংলাদেশে দেখি আর্ট/লিটারেচার পর্যালোচনা মানে খালি বিশেষণ আর বিশেষণ। কিন্তু বিশেষণের প্রয়োগের কোনো জাস্টিফিকেশন নাই। কাজের গঠন/প্রেক্ষাপট/পদ্ধতি/শৈলী/মাধুর্য/সিনট্যাক্স কোনো কিছু নিয়াই ফর্মাল আলোচনা নাই। অনেক অনেক গ্রেট আর গ্রাউন্ডব্রেকিং ব্যাপার-স্যাপার। আবছায়া, ধোয়াধোয়া, মিস্টিফিকেশন। ইনফর্মাল অভিব্যক্তি ইটসেল্ফ সমস্যা না। সাধারণ দর্শক/শ্রোতা/পাঠক/ভোক্তা ইনফর্মাল হইতেই পারে। কিন্তু, ইনফর্মাল কাজকাম তো ফর্মাল ভান ধরে করা যাবে না। এইটা আত্মপ্রবঞ্চনা।

২) এই থেকে আরেকটু আগাইয়া যারা পর্যালোচনা/মূল্যায়ন করতে যায়, বিশেষ কইরা পলিটিক্যাল বা থিওরিটিক্যাল লোকজন, তারা খালি নিয়তের পর্যালোচনা করে। এইটা মনে হয় আর্টিস্টদের উপর থিওরিস্টদের প্রতিশোধ, আর্টিস্টরে ছোটো করে এনে থিওরিস্টের আদলে একটা বনসাই ভার্সন তৈরি করার জন্য। আর্টিস্টকে দেখে মনে হবে সে প্রায় থিওরিস্ট হইতে হইতে একটুর জন্য হইতে পারলো না। আরেকটু বেটার থিওরি করতে পারলেই সে বেটার আর্টিস্ট হইতে পারবে। এখানে, আর্টিস্ট কী কাম সম্পন্ন করছে সেইটা নিয়া আলাপ নাই (যেইটাতে তার আসল গুরুত্ব), বরঞ্চ, আর্টিস্টের নিয়ত কী ছিল সেইটা হইলো প্রধান। কোনো আর্টিস্ট গ্রেট/গ্রাউন্ডব্রেকিং কাজ করার পরিকল্পনা করছে, এইটা এমনভাবে বলবে যেন সেই চিন্তা/নিয়তটাই ইটসেল্ফ গ্রেট বা গ্রাউন্ডব্রেকিং কাজ। কাজটা এরপর বুলশিট হোক, নিয়তের কারণে তা পূজনীয় হইতে হবে। (এইটা একরকমের ইন্টেনশনাল ফ্যালাসি, সেই আলাপে এখন যাবো না)।

নিয়ত মূলত একটা বায়বীয় বিষয়, কোনো দায় ছাড়া এর গুণ গাওয়া যায়, বাতিল করা যায়। এর কোনো ভিজ্যুয়াল বা টেক্সচুয়াল দায়বদ্ধতা নাই। কিন্তু, কাজ নিয়া কথা কইতে গেলে তো ধরা, জাস্টিফাই করা লাগবে। ফলে, এইটা শর্টকাটও।

৩)

এরচেয়েও আরো এক ধাপ আগায়ে আরেকটা ফাঁকিবাজি আছে, সেইটা হলো ভূতের (অতীতের) ঘাড়ে চেপে বৈতরণি পার হওয়ার প্রচেষ্টা।

যেইটা কিছুটা ‘অ্যাপিল টু অথোরিটি’, কিছুটা ‘অনার বাই অ্যাসোসিয়েশন’ ফ্যালাসির সংমিশ্রণ, সাথে আছে কয়েক চামচ একেডেমিসিজম।

মানে, সে অলরেডি এস্টাবলিশড কোনো ঐতিহাসিক শিল্প-সাহিত্য মুভমেন্টের সাথে অ্যাসোসিয়েট করবে কাজ গুলারে। সেই মুভমেন্টের অথোরিটি, অনারকে ও কালচারাল ক্যাপিটালকে কিছুটা ধার করে নিয়ে ক্লায়েন্টের আর্টকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু, যেইটা অতীতের কোনো প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বর্তমানে তার সস্তা পুনরুৎপাদনের মাঝে কোন গুরুত্বটা লুকায়িত আছে তা উন্মোচন করবে না। সবচেয়ে ট্রাজিক হইলো, অতীতে যেই মুভমেন্টটা ঐ সময়ে বৈপ্লবিক ছিল, বিপ্লবটা হয়ে যাওয়ার পর তার পুনরুৎপাদন যে আর বৈপ্লবিক না, বরঞ্চ বিপ্লব-বিরোধী, সেইটা বেমালুম ভুলায়ে দেয়া (একাডেমিসিজম)। সেই বৈপ্লবিক বৈশিষ্ট্য গুলা যে বিপ্লব পরবর্তী সময়ে নিউ ক্যানন বা রুলবুকের পার্ট হয়ে যায়, এরপর যে তার জাবর কাটাটা একটা ব্ল্যাংক প্যারোডি ছাড়া কিছুই না, সেইটাকে আর হিসাবে রাখে না।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *