সারা দুনিয়া জুড়েই একটা কমন ফেনোমেনা হইলো রাইট-উইংগারদের হাত দিয়ে সুন্দর ও ভালো মানের কোনো শিল্পকর্ম বা সাহিত্য হইতেছে না। এই নিয়া বিভিন্ন আলাপ বা মিম ট্রেন্ড চালু আছে। বাংলাদেশেও এই ফেনোমেনা দৃশ্যমান। রাইট-উইংগাররা হয় Ai কুখাদ্য প্রোডিউস করতেছে নাহয় উপামহাদেশের লেফটিস্টদের কাজরে ছিনতাই করার চেষ্টা করতেছে। ছিনতাই বলতেছি, কারণ সে শিল্পকর্মটুকু নিবে, কিন্তু শিল্প ও শিল্পীর ইতিহাস, লড়াই, ঐতিহ্য, প্রেক্ষাপট ইত্যাদিকে বাদ দিয়ে। সে লেনিন, মার্ক্স, চে, কাস্ত্রো, মাওয়ের কোটেশন নিবে, কিন্তু সেই কোটেশন যেই বই বা ভাষণ থেকে উদ্ধৃত তা নিবে না। সে উর্দু কবির কবিতাটা নিবে, কিন্তু সেই উর্দু কবির যে রেসিআল-সুপিরিওরিটি বিরোধী যেই স্পিরিট, সেটাকে নিবে না।
এই ঘটনাকে দুই ভাবে রিড করার সুযোগ আছে। একভাবে দেখলে এটা রাইট-উইংগারদের পরাজয় যে তাদেরকে শেষমেশ এই সারেন্ডারটুকু করাই লাগতেছে, প্রতিপক্ষকে প্রাসঙ্গিক করে রাখতেই হচ্ছে।
আরেকভাবে রিড করা যায় যে, এই যে ছিনতাই, এটা সারেন্ডারের মতো দেখা গেলেও, এটা মূলত শিল্পকর্মের এই ধারাকে শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেটিশাইজড প্রোডাক্টে রূপান্তর করা। একটা সময় পরে যার কোনো ইতিহাস, প্রেক্ষাপট ও অর্থময়তা থাকবে না। এমনকি এই ধারায় নতুন শিল্পকর্মগুলোও আর মানুষের মনে এখনকার মতো সংবেদন বা দ্যোতনা তৈরি করবে না। এই দিক থেকে রাইট-উইংগারদের এই স্ট্র্যাটেজিটা কার্যকরী। সে যদি গু ছাড়া কিছুই না প্রডিউস করতে পারে, তবে বাকিরা যে যাই প্রডিউস করুক না কেন, তাতে গু মাখায়ে দেয়াটাই তার জন্য চতুরতার কাজ। ফলে, লেফটিস্ট ধারার শিল্পী, রাজনৈতিক ও রসিক যারা, তাদের একটা গুরু দায়িত্ব তাদের সম্পদের উপর ক্লেইম শক্তভাবে জারি রাখা।
শিল্প, সাহিত্য এক প্রকার নেগোশিয়েশনও। এই নেগোসিয়েশন এর ভেতর দিয়ে অপরকে স্বীকার করতে হয়। অথচ, রাইট উইঙ্গাররা অপরকে স্বীকার করার চেয়ে, শিকার করতে বেশি আগ্রহী। রস যদি তাদের লাগেই, তবে আগে রসিক হওয়ার চেষ্টা করুক, ডাকাতি স্বভাব বাদ দিয়ে।
(২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)

Leave a Reply